Tawhid Alam Muhaj

I am a Writer

Tawhid Alam Muhaj

I am a professional Digital Marketer and Graphics Designer with a strong passion for helping brands grow online. I specialize in creative design, targeted advertising, and result-driven digital marketing strategies to boost visibility, engagement, and sales. My goal is to deliver high-quality work that creates real impact for businesses.

  • Sunamganj, Sylhet, Bangladesh.
  • 01780438872, 09697068872
  • Tawhidalam2004@gmail.com
  • www.Tawhidalam.info
Me

My Professional Skills

Web Design, Graphics Design, Social Media Ad Management, Facebook and Google Ads, Creative Content Design, Branding and Visual Marketing.

Social media marketing 95%
Google And Youtube marketing 90%
Web designt 95%
Wordpress 60%

Awesome features

Aliquam commodo arcu vel ante volutpat tempus. Praesent pulvinar velit at posuere mollis. Quisque libero sapien.

Animated elements

Lorem ipsum dolor sit amet, consectetur adipiscing elit. Sed tempus cursus lectus vel pellentesque. Etiam tincidunt.

Responsive Design

Pellentesque ultricies ligula a libero porta, ut venenatis orci molestie. Vivamus vitae aliquet tellus, sed mollis libero.

Modern design

Duis ut ultricies nisi. Nulla risus odio, dictum vitae purus malesuada, cursus convallis justo. Sed a mi massa dolor.

Retina ready

Vivamus quis tempor purus, a eleifend purus. Ut sodales vel tellus vel vulputate. Fusce rhoncus semper magna.

Fast support

Suspendisse convallis sem eu ligula porta gravida. Suspendisse potenti. Lorem ipsum dolor sit amet, duis omis unde elit.

0
completed project
0
design award
0
facebook like
0
current projects
  • আমাদের দোয়া কেন কবুল হয়না । দোয়া কবুলের কিছু পূর্ব শর্ত

    আমাদের দোয়া কবুল হয়না কেন । দোয়া কবুলের কিছু পূর্বশর্ত নিউজ ডেস্ক :tawhidalammuhaj.blogspot.com
    দোয়া কবুলের পূর্বশর্ত : ১. আল্লাহ্‌ ছাড়া অন্য কাউকে না ডাকা। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইবনে আব্বাস (রাঃ) কে উদ্দেশ্য করে বলেন: “যখন প্রার্থনা করবে তখন শুধু আল্লাহ্‌র কাছে প্রার্থনা করবে এবং যখন সাহায্য চাইবে তখন শুধু আল্লাহ্‌র কাছে সাহায্য চাইবে।”[সুনানে তিরমিযি (২৫১৬), আলবানী ‘সহিহুল জামে’ গ্রন্থে হাদিসটিকে সহিহ আখ্যায়িত করেছেন] এটাই হচ্ছে আল্লাহ্‌র বাণীর মর্মার্থ “وَّ اَنَّ الۡمَسٰجِدَ لِلّٰہِ فَلَا تَدۡعُوۡا مَعَ اللّٰہِ اَحَدًا এবং এই যে মাসজিদসমূহ, আল্লাহরই জন্য। সুতরাং আল্লাহর সাথে তোমরা অন্য কেহকেও ডেকনা। And the mosques are for Allah (Alone), so invoke not anyone along with Allah.”[সূরা জিন্‌, আয়াত: ১৮] দোয়ার শর্তগুলোর মধ্যে এটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শর্ত। এ শর্ত পূরণ না হলে কোন দোয়া কবুল হবে না, কোন আমল গৃহীত হবে না। অনেক মানুষ রয়েছে যারা নিজেদের মাঝে ও আল্লাহ্‌র মাঝে মৃতব্যক্তিদেরকে মাধ্যম বানিয়ে তাদেরকে ডাকে। তাদের ধারণা যেহেতু তারা পাপী ও গুনাহগার, আল্লাহ্‌র কাছে তাদের কোন মর্যাদা নেই; তাই এসব নেককার লোকেরা তাদেরকে আল্লাহ্‌র নৈকট্য হাছিল করিয়ে দিবে এবং তাদের মাঝে ও আল্লাহ্‌র মাঝে মধ্যস্থতা করবে। এ বিশ্বাসের কারণে তারা এদের মধ্যস্থতা ধরে এবং আল্লাহ্‌র পরিবর্তে এ মৃতব্যক্তিদেরকে ডাকে। অথচ আল্লাহ্‌ বলেছেন: “আর আমার বান্দারা যখন আপনাকে আমার সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে (তখন আপনি বলে দিন) নিশ্চয় আমি নিকটবর্তী। দোয়াকারী যখন আমাকে ডাকে তখন আমি ডাকে সাড়া দিই।”[সূরা বাকারা, আয়াত: ১৮৬] ২. শরিয়ত অনুমোদিত কোন একটি মাধ্যম দিয়ে আল্লাহ্‌ তাআলার কাছে ওসিলা দেয়া। ৩. দোয়ার ফলাফল প্রাপ্তিতে তাড়াহুড়া না করা। তাড়াহুড়া করা দোয়া কবুলের ক্ষেত্রে বড় বাধা। হাদিসে এসেছে, “তোমাদের কারো দোয়া ততক্ষণ পর্যন্ত কবুল হয় যতক্ষণ পর্যন্ত না সে তাড়াহুড়া করে বলে যে: ‘আমি দোয়া করেছি; কিন্তু, আমার দোয়া কবুল হয়নি”[সহিহ বুখারী (৬৩৪০) ও সহিহ মুসলিম (২৭৩৫)] সহিহ মুসলিমে (২৭৩৬) আরও এসেছে- “বান্দার দোয়া ততক্ষণ পর্যন্ত কবুল করা হয় যতক্ষণ পর্যন্ত না বান্দা কোন পাপ নিয়ে কিংবা আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করা নিয়ে দোয়া করে। বান্দার দোয়া ততক্ষণ পর্যন্ত কবুল করা হয় যতক্ষণ পর্যন্ত না বান্দা ফলাফল প্রাপ্তিতে তাড়াহুড়া না করে। জিজ্ঞেস করা হল: ইয়া রাসূলুল্লাহ! তাড়াহুড়া বলতে কী বুঝাচ্ছেন? তিনি বললেন: বলে যে, আমি দোয়া করেছি, আমি দোয়া করেছি; কিন্তু আমার দোয়া কবুল হতে দেখিনি। তখন সে ব্যক্তি উদ্যম হারিয়ে ফেলে এবং দোয়া ছেড়ে দেয়।” ৪. দোয়ার মধ্যে পাপের কিছু না থাকা। আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করা নিয়ে দোয়া না হওয়া; যেমনটি ইতিপূর্বে উল্লেখিত হাদিসে এসেছে- “বান্দার দোয়া ততক্ষণ পর্যন্ত কবুল করা হয় যতক্ষণ পর্যন্ত না বান্দা কোন পাপ নিয়ে কিংবা আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করা নিয়ে দোয়া করে।” ৫. আল্লাহ্‌র প্রতি ভাল ধারণা নিয়ে দোয়া করা। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আমার বান্দা আমার প্রতি যেমন ধারণা করে আমি তেমন।”[সহিহ বুখারী (৭৪০৫) ও সহিহ মুসলিম (৪৬৭৫)] আবু হুরায়রা (রাঃ) এর হাদিসে এসেছে, “তোমরা দোয়া কবুল হওয়ার দৃঢ় বিশ্বাস (একীন) নিয়ে আল্লাহ্‌র কাছে দোয়া কর।”[সুনানে তিরমিযি, আলাবানী সহিহুল জামে গ্রন্থে (২৪৫) হাদিসটিকে ‘হাসান’ আখ্যায়িত করেছেন] তাই যে ব্যক্তি আল্লাহ্‌র প্রতি ভাল ধারণা পোষণ করে আল্লাহ্‌ তার উপর প্রভুত কল্যাণ ঢেলে দেন, তাকে উত্তম অনুগ্রহে ভূষিত করেন, উত্তম অনুকম্পা ও দান তার উপর ছড়িয়ে দেন। ৬. দোয়াতে মনোযোগ থাকা। দোয়াকালে দোয়াকারীর মনোযোগ থাকবে এবং যাঁর কাছে প্রার্থনা করা হচ্ছে তাঁর মহত্ত্ব ও বড়ত্ব অন্তরে জাগ্রত রাখবে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “তোমরা জেনে রাখ, আল্লাহ্‌ কোন উদাসীন অন্তরের দোয়া কবুল করেন না।”[সুনানে তিরমিযি (৩৪৭৯), সহিহুল জামে (২৪৫) গ্রন্থে শাইখ আলবানী হাদিসটিকে ‘হাসান’ আখ্যায়িত করেছেন] ৭. খাদ্য পবিত্র (হালাল) হওয়া। আল্লাহ্‌ তাআলা বলেন, “আল্লাহ্‌ তো কেবল মুত্তাকীদের থেকেই কবুল করেন”[সূরা মায়েদা, আয়াত: ২৭] এ কারণে যে ব্যক্তির পানাহার ও পরিধেয় হারাম সে ব্যক্তির দোয়া কবুল হওয়াকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সুদূরপরাহত বিবেচনা করেছেন। হাদিসে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এমন ব্যক্তির কথা উল্লেখ করেন, যিনি দীর্ঘ সফর করেছেন, মাথার চুল উস্কুখুস্ক হয়ে আছে; তিনি আসমানের দিকে হাত তুলে বলেন: ইয়া রব্ব, ইয়া রব্ব! কিন্তু, তার খাবার-খাদ্য হারাম, তার পানীয় হারাম, তার পরিধেয় হারাম, সে হারাম খেয়ে পরিপুষ্ট হয়েছে তাহলে এমন ব্যক্তির দোয়া কিভাবে কবুল হবে?[সহিহ মুসলিম, (১০১৫)] ইবনুল কাইয়্যেম (রহঃ) বলেন, হারাম ভক্ষণ করা দোয়ার শক্তিকে নষ্ট করে দেয় ও দুর্বল করে দেয়। ৮. দোয়ার ক্ষেত্রে কোন সীমালঙ্ঘন না করা। কেননা আল্লাহ্‌ তাআলা দোয়ার মধ্যে সীমালঙ্ঘন করাটা অপছন্দ করেন। আল্লাহ্‌ তাআলা বলেন, “তোমরা বিনীতভাবে ও গোপনে তোমাদের রবকে ডাক; নিশ্চয় তিনি সীমালঙ্ঘনকারীদের পছন্দ করেন না।” [সূরা আরাফ, আয়াত: ৫৫] আরও বিস্তারিত জানতে দেখুন 41017 নং প্রশ্নোত্তর। ৯. ফরয আমল বাদ দিয়ে দোয়াতে মশগুল না হওয়া। যেমন, ফরয নামাযের ওয়াক্তে ফরয নামায বাদ দিয়ে দোয়া করা কিংবা দোয়া করতে গিয়ে মাতাপিতার অধিকার ক্ষুণ্ণ করা। খুব সম্ভব বিশিষ্ট ইবাদতগুজার জুরাইজ (রহঃ) এর কাহিনী থেকে এ ইঙ্গিত পাওয়া যায়। কারণ জুরাইজ (রহঃ) তার মায়ের ডাকে সাড়া না দিয়ে ইবাদতে মশগুল থেকেছেন। ফলে মা তাকে বদদোয়া করেন; এতে করে জুরাইজ (রহঃ) আল্লাহ্‌র পক্ষ থেকে কঠিন পরীক্ষার সম্মুখীন হন। ইমাম নববী (রহঃ) বলেন, আলেমগণ বলেছেন: এতে প্রমাণ রয়েছে যে, জুরাইজের জন্য সঠিক ছিল মায়ের ডাকে সাড়া দেয়া। কেননা তিনি নফল নামায আদায় করছিলেন। নফল নামায চালিয়ে যাওয়াটা হচ্ছে- নফল কাজ; ফরয নয়। আর মায়ের ডাকে সাড়া দেয়া ওয়াজিব এবং মায়ের অবাধ্য হওয়া হারাম....”[শারহু সহিহু মুসলিম (১৬/৮২)]
  • একত্র মুসলিম ভূমি কিভাবে বিভক্ত হল

    একত্র মুসলিম ভূমি কিভাবে বিভক্ত হল
    বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের আরব রাজপরিবার শাসিত সরকারগুলু একে একে সবাই ইসরাইলের সাথে বাণিজ্যিক আর কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করছে, যা প্যালেস্টাইনের মুসলিমদের সাথে সরাসরি বেইমানি। বেপারটা দুঃখজনক, কিন্তু আশ্চর্য না মোটেও, কারণ ক্ষমতাসীন সব রাজ পরিবারের জন্মই মুসলিম উম্মাহর সাথে বেইমানি করে। দুঃখজনকভাবে বর্তমানে আমরা প্রায় সব মুসলিমরাই নিজেদের ইতিহাস ভুলে গেছি , ইসলামের ইতিহাসও ভুলে গেছি, ধর্মের ইতিহাস সম্পর্কে আমরা উদাসীন। আমরা নিজেদের জাতি গোত্রের অতিসম্প্রতিক ইতিহাস নিয়ে মাথা ঘামাই বেশি। বস্তুতপক্ষে মুসলমানদের ইচ্ছাপ্রণোদিত ভাবে নিজেদের ইসলামিক ইতিহাস থেকে দূরে সরিয়ে রাখা হয়েছে। ইতিহাসের পাতা এখন বিশ্বাসঘাতক আর অত্যাচারকারীর কাহিনীতে ভরা , যারা এখন এইসব ইতিহাসকে মুছে ফেলতে চায়। আমরা মুসলমানরা যদি আবারও সামনে এগিয়ে যেতে চাই , আমাদের আগে অবশ্যই জানতে হবে আমরা কিভাবে পিছিয়ে পড়লাম। লেখক : Julfikar Rijon (Copy without credit Not Allowed) তথ্যসূত্র: আরব বিদ্রোহ এবং মধ্যপ্রাচ্যের অধঃপতনের ইতিহাস নিয়ে বাংলা ডকুমেন্টারী https://youtu.be/SSd2eud8nD4 আরবি ভাষায় কোরআন নাজিল হয়েছে এবং আরবরাই প্রথম ইসলামকে পৃথিবীর বিভিন্ন সীমান্তে পৌঁছে দিয়েছে। পরবর্তীতে অন্নান্য জাতি গোষ্ঠীও ইসলাম গ্রহণ করে। পার্সিয়ান, তুর্কি, আফ্রিকান বারবার , মঙ্গোল খানেতের শাসকেরা সবাই ইসলামকে আরো দূরদেশে ছড়িয়ে দিয়েছে এবং অনেকবার মুসলিম উম্মার প্রয়োজনে জীবন দিয়ে ইউরোপীয়ানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছে। দীর্ঘদিন তুর্কিরা মুসলিম উম্মার জন্য লড়েছে এবং খেলাফতের দায়িত্বেও থেকে পুরো উম্মার জন্য জন্য কাজ করেছে। সেলজুকরা একসময় এসেছিলো এবং রক্তপিপাসু ইউরোপিয়ান ত্রুসেডারদের ধুলার সাথে মিশিয়ে ফেলেছিলো। যখন ৫0,000 ত্রুসেডার যুদ্ধ করতে এসেছিলো , বীর সিংহ নামে পরিচিত , সুলতান আল্প আর্সলান প্রতিরোধ করতে মাত্র ১৫ হাজার সৈন্য নিয়ে এগিয়ে আসলেন। তিনি সব সৈন্যকে সাদা পোশাকে পড়তে বললেন , তিনি বলেছিলেন, "আজ হলো আমাদের বিবাহ দিবস , এজন্যই আমরা সাদা পোশাক পড়েছি , আমাদের জীবন দিয়ে হলেও এই ত্রুসেডারদের আজ আমরা থামাবোই। আমরা পৃথিবীর ইতিহাসে নতুন চ্যাপ্টার লিখতে যাচ্ছি।" সেই সেলজুক বাহিনী ঐদিন ইসলামকে রক্ষা করতে জীবন দিতে প্রস্তুত ছিল। তারপর ওসমান গাজীর বংশধরেরা ক্ষমতায় আসে এবং ৮০০ বছর ইসলামকে সুউচ্চ অবস্থানে রেখেছিলো। তারা ইসলামের পবিত্র স্থানকে হেফাজতের জন্য আমরণ চেষ্টা করে গেছে। তারা মুসলমানদের অধিকার সমুন্নত রেখেছিলো। এমনকি অমুসলিম প্রজাদের সম্রাজ্যের ভিতরে যথাযথ অধিকার দিয়েছিলো। অটোম্যানরা আমাদের নবী রাসুল্লাহ (সাঃ ) এর হাদীসকে সর্বোচ সম্মান দিয়ে চলতো , আমাদের নবী (সাঃ ) একবার বলেছিলেন, "মানবজাতির মধ্যে মুসলিম উম্মা হলো একটু সম্পূর্ণ ভিন্ন আর বিশেষ একটি জাতি। তাদের সবার সীমানা হলো এক সীমানা , তাদের যুদ্ধ হলো এক যুদ্ধ , তাদের শান্তিও এক , তাদের সম্মান ও এক এবং তাদের বিশ্বাস ও এক। "
    অটোমানরা তাদের উম্মার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত সকল জাতি গোত্রকেই সম্মান করে সমানভাবে। অটোমেনরা বিশেষভাবে আরবদের সম্মান ও ভক্তি করতো এবং আরবদের " সম্মানী মানুষ" বলে সম্ভোধন করে ডাকতো। কিন্তু পরবর্তীতে ইতিহাসে কি হলো? অটোম্যান সুলতানের সবচেয়ে খারাপ আর দুর্বল সময়ে , মুসলিম উম্মা আর খেলাফতকে রক্ষা করতে অটোম্যান সৈন্যরা একসাথে ২০টির বেশি সীমান্তে যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছিলো। আরবরা এরকম দুঃসময়ে খলিফার সাথে বিশ্বাস ঘাতগতা করে। অর্থ আর ক্ষমতার লোভে মক্কার শরীফ হোসাইন , ইজিপ্টে ব্রিটিশ হাই কমিশনার হেনরি ম্যাকমোহনের সাথে ১৯১৫ সাল থেকে পত্র মারফত গোপন চক্রান্তে লিপ্ত হয়েছিল। ব্রিটিশরা সমগ্র আরবের ক্ষমতা হোসাইনের হাতে দেয়ার মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলো। বিনিময়ে হোসাইন , অটোমান তুর্কিদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহে ব্রিটিশদের সাহায্য প্রার্থী হয়েছিল। ব্রিটিশরা ক্ষমতা আর টাকার লোভ দেখিয়ে মুসলমানদের , মুসলমানদের উপর যুদ্ধ চালাতে প্ররোচনা দিয়েছে। শরীফ হোসাইন আমাদের মহানবী (সা:) র বংশধর হওয়ায় , আরব তথা মুসলিম বিশ্বে যে তাদের কদর আর সম্মান ছিল , সেটা কাজে লাগিয়ে , ব্রিটিশরা পরিকল্পনা করে অটোমান মুসলমান সৈন্যদের উপর লেলিয়ে দিয়েছিলো। যেখানে অটোমান সৈন্যরা প্রানপন দিয়ে আরব ভূমি তথা প্যালেস্টাইন কে খ্রিষ্টানদের থেকে রক্ষা করার জন্য চেষ্টা করছিলো। ব্রিটিশরা ক্রিস্টমাসের আগেই পবিত্র ভূমি প্যালেস্টাইনকে দখল করে , তাদের হাজার বছরের ত্রুসেডের ব্যর্থতার প্রতিশোধ নেয়ার পরিকল্পনা করেছিল। ব্রিটিশরা আমাদের মহানবীর বংশধর , মক্কার শরীফ হোসাইন , যেকিনা মক্কা মদিনার অটোমানদের নিযুক্ত গভর্নর ও ছিল, তাকে বলেছিলো, ''তোমরা কেন এই তুর্কিদের অধীনে থাকবে, তোমরা কেন তাদের থেকে বিচ্ছিন্ন হচ্ছনা ? তোমাকে আমরা নতুন খলিফা বানাবো। এই অটোমান তুর্কিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করো। " কিছু আরব বীর অটোমানদের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে উম্মা আর খেলাফতের সাথে বেইমানি করেনি। কিন্তু দুঃখজনকভাবে অধিকাংশ আরবরাই তখন অটোমান খেলাফতের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ শুরু করে। ব্রিটিশদের কখনোই আরবদের সাহায্য করার কোনোরকম পরিকল্পনা ছিলোনা। বোকা , ক্ষমতালোভী শরীফ হোসাইন ব্রিটিশদের ভয়ংকর ফাঁদে পা দেয়। ব্রিটিশদের একমাত্র লক্ষ্য ছিল মুসলিম উম্মাকে ভাগ করে , অটোমান সুলতানকে দুর্বল করা। খেলাফতকে চিরতরে নিশ্চিহ্ন করে দেয়া এবং মধ্যপ্রাচ্যে ত্রুসেড চালিয়ে যাওয়া। থিওডর হেরজেল , জিওনিস্ট মুভমেন্টএর জনক এবং হাঙ্গেরির বুদাপেস্ট থেকে আসা এক সাংবাদিক অটোমান সুলতান আব্দুল হামিদদের সাথে একবার সাক্ষাতের সুযোগ পায়, এমনকি এই সাক্ষাতের ১২০ বছর পুরোনো ভিডিও ফুটেজ এখনো পাওয়া যায়। সেখানে দেখা যায় থিওডোর হেরজাল সুলতানের সন্মমুক্ষে মাথা নুইয়ে সম্মান করছে। ১৯০০ সালে, সুলতান দ্বিতীয় আব্দুল হামিদ , বহিরাগত ইহুদিদের প্যালেস্টিনিয়ান এলাকায় অবস্থানের উপর সময় বেঁধে দেন যে, ৩০ দিনের বেশি সেখানে অবস্থান করতে পারবে না। তিনি আরো আইন করেন যে, বহিরাগত ইহুদিরা অটোমান সম্রাজ্যের কোনো জমি অধিগ্রহণ করতে পড়তে পারবে না, বিশেষকরে প্যালেস্টাইন এলাকায়। থিওডর হেরজেল , অটোমান সম্রাজ্যে ঘুরে ঘুরে বহুবার সুলতান দ্বিতীয় আব্দুল হামিদের সাথে সাক্ষাতের চেষ্টা চালাতে থাকেন। যাইহোক ১৯০১ সালের মে মাসে , সুলতানের পোল্যান্ড অবস্থানরত পরামর্শদাতাকে অনেকবার ধর্ণা দিয়ে অবশেষে সুলতান দ্বিতীয় আব্দুল হামিদের সাথে সংক্ষিপ্ত সাক্ষাতের সুযোগ পায়। এই সাক্ষাতের সময় , থিওডর হেরজেল বিশ্ববেপী জিওনিস্ট নেতাদের পক্ষে সুলতানের কাছে , প্যালেস্টাইন এর জমি তাদের কাছে বিক্রি করার প্রস্তাব দেয় এবং জিওনিস্টদের হাতে প্যালেস্টাইন কে শাসন করার পূর্ণ ক্ষমতা দিতে অনুরোধ জানান, বিনিময়ে অটোমান সম্রাজ্যের সমস্ত অর্থনৈতিক ঋণ শোধ করে দেয়ার এবং সুলতানের পক্ষে জিওনিস্ট নিউস পেপার গুলাতে প্রোপাগান্ডা সংবাদ প্রকাশের সুবিধা দিতে চান। সুলতান দ্বিতীয় আব্দুল হামিদ এই অফার পেয়ে এই উত্তর দিয়েছিলেন, "আমি বিক্রি করবোনা , এমনকি এক ইঞ্চি জায়গায় বিক্রি করবোনা , কারণ এই জায়গার মালিক আমি না , অটোমানরা এই পবিত্রভূমিকে নিজেদের রক্ত দিয়ে রক্ষা করে আসতেছে ৪০০ বছর ধরে। " একবছর পর থিওডর হেরজেল আবারও একই প্রস্তাব নিয়ে সুলতান আব্দুল হামিদের কাছে আসেন। সুলতান বরাবরের মতোই কঠোরভাষায এরকম প্রস্তাব নাকোচ করে দেন। কিন্তু আরব গোত্রের নেতারা বিদেশী ঔপনবেশিক বেনিয়াদের দাবার গুটিতে পরিণত হয়। ব্রিটিশদের গোলাম হয়ে অটোমানদের সাথে প্রক্সি যুদ্ধে লিপ্ত হয়, টাকা আর ক্ষমতার লোভে। যখন আরবরা অটোমান খেলাফতের সাথে বেইমানি আর সংঘষে জড়িত ছিল, ব্রিটিশ, ফ্রেঞ্চ, রাশিয়ান, ইতালিয়ানরা গোপনে মধ্যপ্রাচ্যকে নিজেদের মধ্যে ভাগাভাগি করার পরিকল্পনা করছিলো, এক হাজার বছর আগে ত্রুসেডে হেরে যাওয়ার প্রতিশোধ নেয়ার পরিকল্পনা করছিলো। আরব বিদ্রোহের মাধ্যমে আমাদের মহানবী (সাঃ ) এর বিখ্যাত হাদিস সত্যে পরিণত হলো, "একটা সময় আসবে , বিভিন্ন জাতি তোমাদের বিরুদ্ধে একত্র হবে, যেমনটা মানুষজন দাওয়াতের খাওয়াদাওয়ার জন্য একত্র হয়, একজন আরেকজনকে খাবার ভাগ করার জন্য ডাকবে। '' জনৈক ব্যাক্তি বলেছিলেন, " ইয়া রাসূলুল্লাহ , আমরা কি সংখ্যায় কম হবো , এই কারণে আমাদের এই অবস্থা হবে?" প্রতিউত্তরে মহানবী (সাঃ) বলেছিলেন , "না, ঐসময়ে তোমরা সংখ্যায় অনেক বেশি থাকবে , কিন্তু তোমরা সাগরের ময়লা কীটের মতো , স্রোতের সাথে ভেসে যাবে এবং আল্লাহ তোমাদের উপর থেকে শত্রুদের বুকে যে ভয় কাজ করতো সেটা তুলে নিবেন, এবং তোমাদের মনে 'আল ওয়াহা'ন' দিয়ে দিবেন। " জনৈক ব্যাক্তি জিজ্ঞাসা করেছিলেন, "'আল ওয়াহা'ন' কি ?" প্রতিউত্তরে মহানবী (সাঃ) বলেছিলেন , "দুনিয়ার প্রতি ভালোবাসা আর মৃত্যুর প্রতি অপছন্দ " সুনান আবু দাউদ , ৪২৯৭ , চ্যাপ্টার ৩৯, হাদিস ৭ থমাস এডওয়ার্ড লরেন্স (১৮৮৮-১৯৩৫) , ব্রিটিশ প্রোপাগান্ডা ফিল্ম লরেন্স অফ এরাবিয়ার মাধ্যমে বর্তমানে জনপ্রীয় টি ই লরেন্স, যিনি ১৯০৭ সাল থেকে ১৯১০ সাল পর্যন্ত অক্সফোর্ডের Jesus কলেজে ইতিহাস অধ্যয়ণরত অবস্থায় , এক বছরের জন্য প্যালেস্টাইন থেকে সিরিয়া পর্যন্ত ত্রুসেডারদের হারিয়ে যাওয়া রাজপ্রাসাদের উপর প্রত্নতাত্বিক গবেষণার জন্য এসেছিলেন। পরবর্তীতে তিনি ব্রিটিশ মিউজিয়াম এর অর্থায়নে প্রত্নতাত্বিক গবেষণা চালিয়ে যান, এবং আরবদের ভাষা আর প্রথা , চিন্তা ভাবনার ধরণ তিনি খুব ভালোভাবে বুঝে উঠেন এই সময়ে। ১৯১৪ সালে ব্রিটিশ মিলিটারি, টি ই লরেন্সকে গোপনে সিনাই উপতক্যা , নেজেব মরুভুমিতে মিলিটারি সার্ভে করতে পাঠায় , যে অঞ্চলটা অটোমান সৈন্যদের নিয়ন্ত্রণে ছিল। টি ই লরেন্স প্রত্নতাত্ত্বিক গবেষণা করার ভান ধরে, এভাবেই ব্রিটিশ মিলিটারির স্পাই হিসেবে কাজ শুরু করে। প্রথম বিশ্ব যুদ্ধের শুরুতে টি ই লরেন্স কায়রোতে ব্রিটিশ ইন্টিলিজেন্স অফিসার হন। ১৯১৬ সালে তাকে হিজাজে অর্থাৎ সৌদি এরাবিয়ায় বদলি করা হয়, সেখানে হাসেমাইট বাহিনীর সাথে মিলে, অটোমানদের বিপক্ষে যুদ্ধ করার জন্য। প্রকৃতপক্ষে এই সময় তার প্রধান কাজ ছিল হিজাজের মধ্যে অর্থলোভী , ক্ষমতালোভী গোত্র নেতাদের প্রতি মাসে স্বর্ণমুদ্রা ঘুষ দেয়া। ব্রিটিশরা অটোমান খেলাফতের সাথে যুদ্ধে না জড়িয়ে, আরবদের চিরতরে অটোমান তুর্কীদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহে ঠেলে দিয়েছিলো। ব্রিটিশরা আরবদের বলতো, "তোমরা কিভাবে এমন এক সুলতানের অধীনে , যে আরব না। " আরবরা এইসব শুনে , অটোমানদের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিলো। ইতিহাস ঘাটলে দেখা যায় , অটোমান তুর্কিরা সব সময়ই আরবদের অন্যরকম সম্মানের চোখে দেখতো , কারণ রাসূলুল্লাহ (সা:) আরব ছিলেন। অটোমান তুর্কিদের মধ্যে প্রথা ছিল যে আরবদের দেখলেই হাতে চুমো খেত , কারণ আরবরা রাসুল্লাহ (সাঃ) বংশধর এই সম্মানে। এমনকি এখনো পৃথিবীর যেকোনো প্রান্তে তুর্কি নাগরিকের সামনে রাসুল্লাহ (সাঃ ) এর নাম উঠলেই দাঁড়িয়ে তারা বুকে হাত রেখে সাল্লেল্লাহু আলাইহিসসালাম পাঠ করার প্রথা চালু রেখেছে। কিন্তু আরবরা অটোমান খলিফার চরম মুহূর্তে বিশ্বাস ঘাতগতা করেছে এবং ব্রিটিশদের সাথে যোগ দিয়ে। আরবদের এই বেইমানির কারণে , ব্রিটিশ এবং ফ্রেঞ্চরা পবিত্রভূমি দখল করতে সক্ষম হয়েছিল। এটা উর্ল্লেখ করা জরুরি যে , অল্প সংখক আরব ছিল যারা পুরু সময় খলিফার অনুগত্য ছিল এবং অটোমান তুর্কিদের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছে। সুলতানের আর্মি সিরিয়ার দামেস্ক থেকে সরে আসতে বাধ্য হয় , আরবদের এই বেইমানির কারণে। আল কুদস অর্থাৎ জেরুসালেমে আরবরা, ত্রুসেডার ইউরোপিয়ানদের দখল করার সব সুযোগ করে দিয়েছে। একের পর এক আরব শহর ব্রিটিশদের কাছে হাতে পতন হতে থাকে , কিন্তু একটা শহর ব্রিটিশদের হাতে পড়তে দেয়নি অটোমান সৈন্যরা। অটোমান সৈন্যরা তাদের শেষ রক্ত দিয়েও একটা শহর রক্ষা করেছিল,এই শহরটি হলো আমাদের নবী (সাঃ ) এর শহর মদিনা। ওমর ফকরুদ্দিন পাশা (১৮৬৮-১৯৪৮ ) অনেকগুলো যুদ্ধে লড়ে , ব্রিটিশদের দ্বারা চক্রান্ত করা আরব বিদ্রোহ শুরু হলে, ১৯১৬ সালে মদিনায় আসেন। ফখরুদ্দিন পাশা আর তার অটোমান সৈন্যরা মহানবী (সাঃ) এর মদিনা শহরকে সারেন্ডার করেনি কখনো এবং ১৯১৬ থেকে ১৯১৯ পর্যন্ত জীবনদিয়ে রক্ষা করেছে। ওমর ফকরুদ্দিন পাশা, অটোমান জেনারেল আর বীর সৈনিক , যার সম্পর্কে শত্রু টি ই লরেন্স লিখেছেন , মরুভূমির বাঘ বলে সম্ভোদন করে। ওমর ফকরুদ্দিন পাশা নানা বাধা বিপত্তির মধ্য দিয়ে মদিনাকে রক্ষা করে গেছেন। ১৯১৮ সালের অক্টোবরে অটোম্যানরা, বিদ্রোহী আরব আর ব্রিটিশ বাহিনীর আক্রমণের মুখে পুরো আরব ভূমি তাদের কাছ থেকে হাতছাড়া হয়ে ব্রিটিশদের হাতে পরে। অন্যকোন রকম রসদ আর সাপোর্ট সরবরাহ ছাড়াই , ফকরুদ্দিন পাশা আর তার সৈন্যরা মদিনায় আক্রমণকারীদের হাত থেকে রক্ষা করে গেছে। ব্রিটিশদের প্ররোচনায় আরব বিদ্রোহীরা , কোনো কোনো দিন মহানবী (সা:) এর শহর মদিনায় ১৩০টির ও বেশি বার আক্রমণ করেছিল। আরব বিদ্রোহী হোসাইন আর তার ছেলেরা এবং তাদের সমর্থকরা ৩০০টির বেশি ব্রিটিশদের দেয়া বোমা ফাটিয়েছিলো মদিনা শহরে। আরব বিদ্রোহীরা আর ব্রিটিশরা একত্র হয়ে, ডিনামাইট দিয়ে , মুসলিম উম্মার ঘাম, শ্রম , অর্থে গড়ে তোলা সুলতান আব্দুল হামিদের স্বপ্নের হিজাজ রেলওয়ে কে ধ্বংস করে দিয়েছিলো। টি ই লরেন্স নিজেই ৭৯টি রেলসেতু উড়িয়ে দিয়েছিলো , আরব বিদ্রোহীদের সহায়তায়। হিজাজ রেলওয়ে ধ্বংসের পর অটোমান সৈন্যদের রসদ আসা বন্ধ হয়ে যায়। আকাশ থেকে পঙ্গপাল, ফড়িং উড়ে এসে পড়ছিলো মদিনায়। খাদ্যের অভাবে অটোমান সৈন্যরা ফড়িং পঙ্গপাল খেয়ে বেঁচেছিল এবং তার পরও মদিনাকে পতন হতে দেয়নি। ফখরুদ্দিন পাশা তার সৈন্যদের বলেছিলেন , "এই পঙ্গপাল তুলে নিয়ে সিদ্ধ করে খাও অথবা, না খেয়ে মারা যাওয়া ছাড়া অন্য কোনো উপায় নেই। আমরা বাঁচি বা মরি , সারেন্ডার কোনো অপসন না আমাদের জন্য। আমাদের বেঁচে থাকতে হবে নবী (সা: ) এর শহরকে রক্ষা করতে " . অটোমান সম্রাজ্যকে যখন ব্রিটিশদের হাতে সারেন্ডার করতে বাধ্য করা হয় ১৯১৮ সালে , মদিনায় ওই বীর অটোমান সৈন্যরা ফকরুদ্দিন পাশার নেতৃত্বে ক্ষুদা সৈহ্য করে মদিনাকে রক্ষা করে গেছে। তিনি মদিনা ছেড়ে যেতে অসম্মতি জানায়। তিনি বলেছিলেন , "ইয়া রাসূলুল্লাহ , আপনাকে ছেড়ে দিবোনা কখনোই। " একদিন তিনি মসজিদ-উন-নববীর মিম্বারে দাঁড়িয়ে তার সৈন্যদের উদ্দেশে বলছিলেন , "সৈন্যরা আমার, সবাইকে আহব্বান জানাচ্ছি , আমি সবাইকে অর্ডার দিচ্ছি নবী (সাঃ) এর নিরাপত্তার জন্য , নবী (সাঃ) এর শহরের নিরাপত্তার জন্য, সর্বশেষ বুলেট দিয়ে , সর্বশেষ যে জীবিত থাকবে , শত্রুরা সংখ্যায় যাই হোক প্রতিরোধ চালিয়ে যাবে। আল্লাহ সহায় হন এবং রসুলাল্লাহ (সাঃ) এর দোয়া যেন আমাদের উপর থাকে। আমার বীর তুর্কি বাহিনীর সৈন্যরা , আমার সামনে এসে সবই শপথ নাও যে নিজের ধর্ম বিশ্বাসের সম্মানে নিজের জীবনকে উৎসর্গ করতে প্রস্তুত তোমরা। '' শরীফ হোসাইন ৫ই জুন , ১৯১৭ সালে আরব বিদ্রোহের ঘোষণা করেন। খুব তাড়াতাড়ি মক্কা আর জেদ্দার পতন হয় , কিন্তু ফকরুদ্দিন পাশার সৈন্যরা শপথ করে মদিনাকে প্রতিরোধ করার। শরীফ হোসাইন আর তার ব্রিটিশ মিত্র টি ই লরেন্স প্রথমেই হিজাজ রেলওয়ের পথ ধ্বংস করে ইস্তানবুল থেকে সিরিয়া হয়ে মদিনার পথ বন্ধ করে দেয়। শরীফ হোসাইন যাকে স্বয়ং খলিফা নিজেও সম্মান করতেন নবী (সাঃ ) এর বংশধর হওয়ার জন্য। এই শরীফ হোসাইন ও ক্ষমতার লোভে মুসলিম উম্মার সাথে বেইমানি করেছিল। শরীফ হোসাইন, ফখরুদ্দিন পাশাকে চিঠি লিখে তার আর ব্রিটিশ মিত্রের হাতে আত্মসমর্পণ করতে বলেন। উত্তরে ফখরুদ্ধীন পাশা লিখেন , "প্রাপক যিনি মুসলিম উম্মার শক্তি আর ঐক্য নষ্টকারী , যিনি মুসলিমদের নিজেদের মধ্যে রক্তপাত ঘটাচ্ছে , যিনি খেলাফত আর আমিরুল মোমিনুনকে বিপদের মুখে ফেলেছে, যিনি ব্রিটিশ আধিপত্যের মধ্যে ইসলামকে ফেলছেন, মঙ্গলবার রাতে ১৪ ই জুল হিজ্জর আমি স্বপ্নে দেখতে পাই , আমি ক্লান্ত হয়ে হাটছিলাম, মদিনা প্রতিরোধের বেপারে চিন্তিত ছিলাম। তারপর আমার সামনে খুবই সুন্দর চেহারার একজনকে সামনে দেখতে পাই, তিনি ছিলেন , রাসুল্লাহ (সাঃ ), তিনি তার বাম হাত কোমরে রেখে দাঁড়িয়ে আমাকে রক্ষণাত্মক ভাষায় বলেছিলেন , আমাকে অনুসরণ করো। আমি দুই তিন করম তাকে অনুসরণ করলাম। তার পর ঘুম থেকে উঠলাম। এখন আমি রাসূলুল্লাহ (সাঃ ) নিরাপত্তায় আছি , তিনিই আমার শ্রেষ্ঠ লিডার , আমি নিজেকে মদিনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যস্ত সময় পার করছি, মদিনায় রাস্তা আর চত্বর নির্মাণ চালিয়ে যাচ্ছি। সতরাং আমাকে অপ্রয়োজনীয় প্রলোভন দেখিয়ে কোনো লাভ নেই। '' - ওমর ফখরুদ্দিন পাশা ৯ই জানুয়ারী ১৯১৯ সালে, অটোমানদের একদল ফখরুদ্দিন পাশাকে বুঝতে আসে যে পুরু আরবের পতন হয়েছে, মদীনাকে আর প্রতিরোধ করে চালিয়ে যাওয়া যাবে না। ফখরুদ্দিন পাশা রাসূলাল্লাহ (সাঃ) এর কবরের পাশে বসে ছিলেন , তাকে অবশেষে অটোমানরা বাধ্য হয়ে জোর করে ধরে নিয়ে যায়। ফকরুদ্দিন পাশা তার প্রতিশুতি রেখেছে এবং কখনো সারেন্ডার করেনি। সাদিক ইয়াহিয়া নামক একজনের রিপোর্ট অনুযায়ী , যিনি শরীফের বাহিনীর সাথে মদিনা ঢুকেছিলেন। তিনি লিখেছিলেন যে , “পুরো মদিনা অক্ষত অবস্থায় আছে , এমনকি প্রতিটি গাছপালা , বাগান সব অক্ষত অবস্থায় আছে। “ তারপর আরব বিদ্রোহীরা মদিনায় প্রবেশ করে , টানা ১২ দিন মদিনা শহর লুট করে। বিদ্রোহীরা বিভিন্ন জায়গা ধ্বংস করে , অসম্মান করে, কিছু গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ধূলিসাৎ করে দেয়। আরব বিদ্রোহীরা ৪০০ বাড়ির তালা ফেঙ্গে যা পায় তাই লুট করে। ফকরুদ্দিন পাশা অনেক দূরদর্শী ছিলেন, তিনি আগেই মদিনা থেকে মহানবী (সাঃ এর স্মৃতি বিজড়িত সব জিনিসপত্র , নথি , দলিল সব অক্ষত অবস্থায় ইস্তাম্বুলে পাঠিয়ে দিতে সক্ষম হয়েছিল। তার এই উদ্যোগের ফলে মুসলিম উম্মা এখনো মহানবী (সাঃ ) এর তৈজসপত্র , নথি , দলিল এগুলু ইস্তানবুলে তাপকাপি জাদুঘরে এখনো দেখার সুযোগ পায়। আরব বিদ্রোহের ফলাফল: প্রথম বিশ্ব যুদ্ধে অটোমানদের পরাজয়ের পর, লরেন্স আর ব্রিটিশ সরকার ক্ষমতালোভী শরীফ আর আরব বিদ্রোহীদের দেয়া কোনো প্রতিশ্রুতি রাখেনি। মহানবীর সেই হাদিসের মতো , ব্রিটিশরা আর ফ্রাঞ্চ মিলে আরবভূমিকে নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয়। এমনকি রাশিয়ানদেরও আমন্ত্রণ করেছিল। কিন্তু রাশিয়ায় জারের বিপক্ষে বিদ্রোহের ফলে , জারের করা চুক্তি অনুযায়ী অন্নান্য ইউরোপীয়ানদের সাথে মধ্যপ্রাচ্যকে ভাগাভাগির পরিকল্পনা থেকে, সোভিয়েত বলসাভিক বিপ্লবীরা সরে আসেন। ১৯১৬ সালের গোপনে করা সাইকস- পিকোট চুক্তির মাধ্যমে আরব ভূমিকে ব্রিটিশরা আর ফ্রেঞ্চরা ভাগ করে নেয়। ৩রা মার্চ, ১৯২৪ সালে , অটোমান সম্রাজ্য অফিসিয়ালি বিলুপ্ত হয় এবং খেলাফত ও শেষ হয়ে যায়। ইউরোপীয়ানদের বিপক্ষে যুদ্ধ করার মতো সম্মিলিত কোনো মুসলিম বাহিনী আর নেই। শরীফ হোসাইন আর তার সন্তানদের পরবর্তীতে ব্রিটিশরা একই ভাবে বেইমানি করে এবং পরবর্তীতে ব্রিটিশরা ইবনে সৌদকে সাপোর্ট দিতে থাকে। এভাবেই ব্রিটিশদের ছত্রছায়ায় সৌদি রেজিম আরবের ক্ষমতায় যায়। ক্ষমতা লোভী শরীফ হোসাইনের করুন পরিণতি হয় , তাকে আরবভূমি থেকে চিরতরে বের করে দেওয়া হয় এবং সাইপ্রাসে তাকে নির্বাসন দেয়া হয়, সেখানেই তার মৃত্যু হয়। জীবনের শেষ দিনগুলোতে শরীফ হোসাইন কেঁদে কেঁদে কাটিয়েছে খেলাফতের সাথে বেইমানির অনুশোচনায়। © Julfikar Rijon (Copy without Credit Not Allowed) আরব বিদ্রোহ এবং মধ্যপ্রাচ্যের অধঃপতনের ইতিহাস নিয়ে বাংলা ডকুমেন্টারী https://youtu.be/SSd2eud8nD4 Bibliography: Jumma Khutba By Shykh Lokman Efendi Hz, Osmani Dergahi NY Seven Pillars of wisdom- T E Lawrence 1926 The Arab awakening : The story of Arab national movements - Hamish Hamilton 1938 Surrender of Medina: January 1919 - Elle Kaderi 1977 A peace to end all peace: The fall of Ottoman Empire and The creation of modern Middle East- David Fromkin 2009 Fekhri (Fehrettin) Pasha and End of Ottoman Rule in Medina -Stroheimer Martin 2013 In the Anglo-Arab Labyrinth: Macmohan-Hossain Correspondence and its interpretation (1914-1939) - Elle Kedouri The Arab Revolt and Siege of Madina - ILM Film Presentation #উসমানীয়খিলাফত #ArabRevolt
  • বিশ্বের শাসকদের কাছে পাঠানো চিঠিতে যা লিখেছিলেন মুহাম্মদ (সা.)

    বিশ্বের শাসকদের কাছে পাঠানো চিঠিতে যা লিখেছিলেন মুহাম্মদ (সা.) ইসলাম ডেস্ক আপডেট: ৫:৫০ ঘণ্টা, সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২১ বিশ্বের শাসকদের কাছে পাঠানো চিঠিতে যা লিখেছিলেন মুহাম্মদ (সা.)
    মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) আরব উপদ্বীপের বাইরে পৃথিবীর প্রধান রাষ্ট্রের শাসকদের কাছে ইসলামের দাওয়াত পাঠিয়েছিলেন। ওই সময় রাজশক্তিগুলো ছিল ইউরোপের রোম সাম্রাজ্য, এশিয়ার পারস্য সাম্রাজ্য এবং আফ্রিকার হাবসা সাম্রাজ্য। ষষ্ঠ হিজরিতে মিশরের শাসক আল-মুকাউকিসের কাছে ইসলামের দাওয়াত দিয়ে চিঠি পাঠান মুহাম্মদ (সা.)। ওই চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেন, যদি তিনি মুসলমান হন, তাহলে আল্লাহ তার পুরস্কার দ্বিগুণ করে দেবেন।
    ওই চিঠিতে একটি সুরার উদ্ধৃতিও দিয়েছিলেন হজরত মুহাম্মদ (সা.)। আর তা হলো- ‘হে আহলে কিতাব, তোমরা এমন কথার দিকে আস, যেটি আমাদের মধ্যে ও তোমাদের মধ্যে সমান যে, আমরা একমাত্র আল্লাহ ছাড়া কারও ইবাদাত না করি। আর তার সঙ্গে কোনো কিছুকে শরিক না করি এবং আমাদের কেউ কাউকে আল্লাহ ছাড়া রব হিসেবে গ্রহণ না করি। ’ তারপর যদি তারা বিমুখ হয় তবে বল, ‘তোমরা সাক্ষী থাকো যে, নিশ্চয় আমরা মুসলিম’। (সুরা আল-ইমরান, আয়াত: ৬৪) ষষ্ঠ হিজরিতে ইথিওপিয়ায় সম্রাট আশামা ইবনে আবজার, বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্যের সম্রাট হেরাক্লিয়াস, পারস্যের রাজা চসরো, বাহরাইনের শাসক মুনজির ইবনে সাওয়া, ইয়েমেনের রাজপুত্র হিমায়রিত হরিত ও হরিত গাসানিকে দূতের মাধ্যমে চিঠি পাঠিয়েছিলেন হজরত মুহাম্মদ (সা.)। এ ছাড়া শামের গভর্নরকেও তিনি চিঠি পাঠিয়েছিলেন।
    রাজা ও রাজকুমারদের কাছে পাঠানো ওই চিঠিতে হজরত মুহাম্মদ (সা.) মূলত ইসলামের দাওয়াত দিয়েছিলেন। চিঠিগুলোর সবই এই বক্তব্যের মাধ্যমে শেষ করা হয়েছিল যে, ‘যদি আপনি মুখ ফিরিয়ে নেন, তবে আপনি আপনার অনুসারীদের পাপের বোঝা বহন করবেন। ’ ঐতিহাসিকরা বলছেন, মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর চিঠি ছিঁড়ে ফেলেছিলেন পারস্যের রাজা চসরো। ওই ঘটনার অল্প সময়ের মধ্যে তিনি মারা যান। এরপর সেই সাম্রাজ্য দুর্বল হয়ে পড়ে। ওই চিঠির একটি অংশ তুরস্কের ইস্তাম্বুল মিউজিয়ামে রাখা আছে। আর মূল চিঠি আছে সৌদি আরবের মদিনা মিউজিয়ামে। এ ছাড়া রোমের সম্রাট হিরাক্লিয়াসের কাছে মহানবী হজরত মুহাম্মাদ (সা.) ইসলামের দাওয়াত দিয়ে যে চিঠিটি পাঠিয়েছিলেন, তা এখন জর্ডানের কিং হুসাইন মসজিদে সংরক্ষিত রয়েছে। সূত্র: আল-আরাবিয়া ডটনেট জেএইচটি
  • সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধে আইনি নোটিশ

    সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধে আইনি নোটিশ নিউজ ডেস্ক আপডেট: ১৪১০ ঘণ্টা, সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২১
    সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধে আইনি নোটিশ ঢাকা: করোনা মহামারি নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখতে সরকারের সংশ্লিষ্টদের প্রতি আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী খন্দকার হাসান শাহরিয়ার প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সচিবসহ ছয়জনকে এ নোটিশ পাঠিয়েছেন। নোটিশে সাতদিনের মধ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার সিদ্ধান্ত বাতিল করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ ও প্রচার করার অনুরোধ করা হয়েছে। অন্যথায় এ বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হবে বলেও নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে। উল্লেখ্য, মহামারি করোনার কারণে গত বছরের ১৭ মার্চ থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়। এরপর থেকে দফায় দফার বন্ধ বাড়িয়ে চলতি মাসের ১১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত করা হয়। সূত্র: আরটিভি। বাংলাদেশ সময়: ১৪০৯ ঘণ্টা, সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২১ এনটি
  • কাদিয়ানীরা একটি সুষ্পষ্ট ধর্মমত

     কাদিয়ানীদের কিভাবে বিশ্বাস করবেন? এরা গিরগিটির মতো প্রতি ক্ষণে রঙ বদলায়! এদের লিফলেট আর প্রচারপত্রগুলো দেখলে মনে হবে যে, এরা শুধুই ইমাম মাহদী হিসেবে মির্যা কাদিয়ানীকে মান্য করার কথা বলছে। এদের দাবী হল, এই একটা মাত্র কনসেপ্ট ছাড়া মুসলমানদের সাথে নাকি এদের আর কোনো বিরোধ নেই! আহা! কত নিকৃষ্ট ধোকা আর মিথ্যাচার!!!

    এখানে এই যে দেখতে পাচ্ছেন, তারাই বলছে, হযরত মুহাম্মদ সাঃ শেষনবী নন। নাউযুবিল্লাহ।

    এর মানে হল, এরা মুহাম্মদ সাঃ -কে বিনা ব্যতিক্রমে “শেষনবী” বিশ্বাস করেনা। অথচ হাদীস শরীফে “লা নাবিয়্যা বা’দী” বলা হয়েছে। যেখানে “লা” শব্দটি ‘লি নাফিয়ে আম’ অর্থাৎ বিনা ব্যতিক্রমে অর্থ নির্দেশকারী ‘লা‘। হুবহু এই ‘লা‘ শব্দটি কলেমার মধ্যেও রয়েছে। ফলে ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু’ অর্থ দাঁড়ায় — বিনা ব্যতিক্রমে আল্লাহই একমাত্র উপাস্য। ফলে এখানে তথাকথিত জিল্লি বা বুরুজি উপাস্যের দ্বিতীয় কোনো কনসেপ্ট নির্দেশ করার যেমন সুযোগ নেই তেমনি ‘লা নাবিয়্যা বা’দী (আমার পর আর কোনো নবী নেই – সহীহ বুখারী)’র কারণেও দ্বিতীয় আর কোনো জিল্লি বা বুরুজি টাইপের নবীর জন্ম হওয়ারও সুযোগ নেই বলে সাব্যস্ত হল।

    তাহলে এখন প্রশ্ন হল, খতমে নবুওয়ত পরিপন্থী বিশ্বাস যাদের তারা কিভাবে নিজেদের “মুসলিম” দাবী করতে পারে?

    লিখক, শিক্ষাবিদ ও গবেষক

  • হাদিসের বর্নিত ৭৩ ফেরকা ও কাদিয়ানি

    • কাদিয়ানীরা হাদীসে বর্ণিত ৭৩ ফেরকার কোনো একটিরও অন্তর্ভুক্ত নয় কেন জেনে নিন!


    বাংলালোকেরাই দেশের ‘আহমদিয়া মুসলিম জামাত’ তথা কাদিয়ানী জামাতের বর্তমান ন্যাশনাল আমীর জনাব আব্দুল আউয়ালখান সাহেব হচ্ছেন প্রাণ, আর এফ এল কোম্পানীর মালিক মেজর জেনারেল (অব.) আমজাদ খাঁন চৌধুরীর ফুফাত ভাই। উল্লেখ্য, আমজাদ সাহেবের পিতা আলী কাশেম খাঁন চৌধুরী আর আব্দুল আউয়াল সাহেবের আম্মা জনাবা মাসুদা সামাদ উনারা দুইজন বৈমাত্রেয় (সৎ) ভাই বোন। [তথ্যসূত্র : আহমদীয়াতের ইতিহাসে বাংলার স্মরণীয় ব্যক্তিত্ব, লিখক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর বাবুল]।

    জনাব আব্দুল আউয়াল সাহেব একটি লেকচারে বলেছেন :

    হাদীস শরীফে উম্মতে মুহাম্মদিয়া ৭৩ ফেরকায় বিভক্ত হবে উল্লেখ আছে। এদের ৭২ ফেরকা দোজখে যাবে আর ১টি ফেরকা বেহেশতে যাবে। আর সেই বেহেশতি একমাত্র ফেরকাটি ‘আহমদী [কাদিয়ানী] জামাত’। সংক্ষেপে।

    এবার তাকে আমার প্রশ্ন, আপনার মির্যা সাহেব তো লিখে গেছেন : “তৃতীয় শতাব্দীর পর বিগত উম্মত তিয়াত্তর ফেরকায় বিভক্ত হইয়া গিয়াছে।” (হাকীকাতুল ওহী [বাংলা] ৩৬)। উল্লেখ্য, বর্তমানে হিজরী চতুর্দশ শতাব্দী চলছে। এমতাবস্থায় প্রশ্ন আসে, মির্যা কাদিয়ানীর জন্মের হাজার বছর আগেই যে উম্মত তেয়াত্তর ফেরকায় বিভক্ত তার অভ্যন্তরে আপনারা প্রবেশ করতে পারেন কিভাবে?

    সেযাইহোক, হাদীস শরীফে তো সুস্পষ্টভাবে এও রয়েছে যে, উম্মতে মুহাম্মদিয়া কখনো গোমরাহীর উপর ঐক্যবদ্ধ হবেনা (তিরমিযী, কিতাবুল ফিতান : হাদীস সহীহ)। আর ইতিহাস সাক্ষী যে, কাদিয়ানিরা কাফের এই বিষয়ে দুনিয়ার সব উম্মতে মুহাম্মদিয়া একমত। তাহলে কি অন্তত এই হাদীস দ্বারাও কাদিয়ানীরা সুস্পষ্টরূপে কাফের সাব্যস্ত হচ্ছেনা? আপনাদের কেন্দ্রীয় মুখপত্র ‘পাক্ষিক আহমদী’ পত্রিকার ২০১৮ সালের ৩১ শে ডিসেম্বর এর সংখ্যাটির ৩৮ নং পৃষ্ঠাতেও লিখা আছে : ‘এই যে তেয়াত্তর দল এই তেয়াত্তর দলই আহমদিয়া জামাতকে কাফির বলিয়া গণ্য করে।’

    সুতরাং কাদিয়ানী সম্প্রদায় উম্মতে মুহাম্মদিয়ার বাহিরে হওয়াই পরিস্কর হয়ে গেল। নতুবা তেয়াত্তর ফেরকার লোকেরা কাদিয়ানীদেরকে কাফির গণ্য করে থাকলে তখন কাদিয়ানী জামাত তেয়াত্তরতম দল হয় কিভাবে?

    GET A FREE QUOTE NOW

    Lorem ipsum dolor sit amet, consectetuer adipiscing elit, sed diam nonummy nibh euismod tincidunt ut laoreet dolore magna aliquam erat volutpat.

    ADDRESS

    Sunamganj, Sylhet, Bangladesh.

    EMAIL

    Tawhidalam2004@gmail.com

    MOBILE

    01780438872
    09697068872